রবিবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০১৮

রূপক'স ইন্টারভিউ উইথ ঋভু

ঋভু ভাইয়া বর্তমানে বাংলাদেশের রুবিক্স কিউবের রেকর্ড হোল্ডার। বাংলাদেশে উনার সর্বনিম্ন টাইমিং ছিল ৬.৫৫ সেকেন্ড আর আন্তর্জাতিকভাবে অফিশিয়ালি ৭.১৮ সেকেন্ড। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে পড়াশোনা করছেন।
ইন্টারভিউটি নিয়েছে রূপক টিমের পক্ষ থেকে আমি, সিয়াম আহমেদ। সহযোগিতা করেছে তাওসিফ তুরাবি। এছাড়া তোমরাও যারা প্রশ্ন পাঠিয়ে আমাকে সাহায্য করেছ। আর ঋভু ভাইয়ার কথা না বললেই নয়। ইন্টারভিউ নেয়ার জন্য আমার প্রস্তুতি ভালো ছিলো না, কিন্তু ভাইয়া খুব মজার মানুষ। কথা বলতে বলতে কখন যে ২ ঘন্টা হয়ে গেছে টেরও পাইনি। ঋভু ভাইয়াকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ।




রূপকঃ হ্যালো ভাইয়া, কেমন আছেন?

ঋভু ভাইয়াঃ খুব ভালো। আসলে আমি কথা খুব বেশি বলি । আমার সাথে কথা বলতে তোমার অসুবিধা হতে পারে কারণ আমি খুব বেশি কথা বলি। বিরক্ত বোধ করো না।

রূপকঃ না, ভাইয়া। আপনি কথা বেশি বলেন এক্ষেত্রে বরং আমার সুবিধাই হলো। ইন্টারভিউ নিতে সুবিধা হবে।

ঋভু ভাইয়াঃ
 হাহা, আচ্ছা বলো।

রূপকঃ
 প্রথমে আপনার রুবিক্স কিউব যাত্রার শুরুর গল্প শুনতে চাই। কিভাবে কবে কিউব মিলানো শুরু করেন ইত্যাদি।

ঋভু ভাইয়াঃ আচ্ছা, আমি যখন ছোট ছিলাম, যখন ক্লাস সেভেন, এইট, নাইনে পড়তাম তখন কবিতা আবৃতি করতাম, ডিবেট ইত্যাদির সাথে যুক্ত ছিলাম...

রূপকঃ ভাইয়া, একটু থামাই। আপনি কবিতা আবৃতি করতেন বললেন। তাহলে নিশ্চয়ই কবিতা পড়তেন কিংবা লিখতেন।

ঋভু ভাইয়াঃ হ্যাঁ, কবিতা আমার খুব পছন্দের, এখনো। আমার মন খারাপ থাকলে কবিতা পড়লেই মন ভালো হয়ে যায়। লিখতামও, ক্লাস সিক্স থেকেই কবিতা লেখা শুরু করি। সিক্স থেকে এইট এই ৩ বছর কবিতা লিখেছি। এখন আর লিখি না।

রূপকঃ 
এখন আর লিখেন না কেন?

ঋভু ভাইয়াঃ এর পিছনে একটা দুঃখের গল্প আছে। আসলে, আমি একটা ডায়েরিতে কবিতা লিখতাম। সেই ডায়েরিতে প্রায় ৩০০ কবিতা ছিলো। আমার কবিতার সাইজ খুব বড় ছিলোনা। ডায়েরির এপিঠ –উপিঠ মিলিয়ে মোট ২ পাতা সাইজের কবিতাই ছিলো। আর আমি পেন্সিল দিয়ে কবিতা লিখতাম যেন কোন কিছু ভুল হলেই মুছতে পারি। এতে জায়গাও কম লাগে আবার লেখ সুন্দর ও থাকে। আর আমার আব্বু ও কবিতা লিখেন, তার কবিতা মাঝে মাঝে পত্রিকাতে ছাপা হতো। তিনিই আমাকে কবিতা লেখার ব্যপারে অনুপ্রেরণা দিতেন। আব্বু বলেছিলেন- “তুমি তো ভালোই কবিতা লিখো, আরো কিছু লিখো, তারপর বইমেলায় তোমার একটা কবিতার বই প্রকাশ করবো। কিন্তু আফসোস- আমি যখন নাইনে পড়ি তখন আমার একজন ক্লাসমেট পড়ার জন্য আমার ডায়েরিটা নেয়। তারপর অনেকদিন তার কোন খোঁজ নেই। কিছুদিন পর জানলাম সেই ছেলে ফ্যমিলিসহ আমেরিকা চলে গেছে, আমার ডায়েরিটা ফেরত না দিয়েই। এরপর থেকে ওর সাথে আর যোগাযোগও হয়নি। তারপর থেকে আর কবিতা লিখিনি কখনো।

রূপকঃ কবিতা আবৃতিতে কখনো পুরষ্কার পেয়েছিলেন?

ঋভু ভাইয়াঃ হ্যা, কবিতা যেহেতু আমার খুব প্রিয় , প্রায়ই বিভিন্ন কবিতা আবৃতির প্রতিযোগিতা যেতাম। অনেক পুরষ্কার ও পেয়েছি। একবার ন্যশনাল কবিতা আবৃতি প্রতিযোগিতায় সেকেন্ড হয়েছিলাম। ২০১২ সালে, তখন আমি নাইনে পড়ি।

রূপকঃ আগের গল্পে ফিরে যাই...

ঋভু ভাইয়াঃ তখন অনেকেই আমাকে বলতো এইগুলা কি করিস, কবিতা- ডিবেট ফালতু সব জিনিস, একদম কুল না, এগুলা করতে বুদ্ধি-সুদ্ধি লাগে না । আমি কিছুই বুঝতাম না , কুল আবার কি! তখন আমি তাদেরকে জিজ্ঞেস করতাম কুল কি? এর কিছুদিন পর একটা সায়েন্স ফেয়ারে যাই। পুরষ্কার বিতরণীর সময় দেখলাম রুবিক্স কিউবের পুরষ্কার দিচ্ছে। এটা ছিলো ২০১২ সাল। এই প্রথম আমি কিউব দেখি, এর আগে কোনদিন দেখিও নি, টাচ ও করি নি। তখন ক্লাস নাইনে ছিলাম। তখন আমাকে তাদের একজন বললো এটা হচ্ছে কিউব। এটা তো কখনোই মিলাতে পারবি না। এমন না যে, তারা বলেছে দেখে এটা মিলাতে হবে।

আমরা কথা বলছিলাম মেসেঞ্জারের গ্রুপ কলে, আমি আর ঋভু ভাইয়া কথা বলছিলাম আর তুরাবি রেকর্ড কথাগুলো করছিলো। প্রথম থেকেই ফোনের ঐপার থেকে খটা-খট শব্দ হচ্ছিলো। ভেবেছিলাম তুরাবি পিসিতে টাইপিং করছে , তাই এই শব্দ । পরে জানতে পারি এটা ঋভু ভাইয়ার কিউব সলভ করার শব্দ ছিলো]

এরপর আমি যখন ক্লাস টেনে উঠলাম, মানে নাইনের শেষে, তখন অনেকদিন বন্ধ থাকে স্কুল । অনেকে অনেক কিছু করে, আমার একটা ফ্রেন্ড ছিলো সে তখন ২ মিনিটে কিউব মিলাইতে পারতো। আমি তখন ভাবতাম- আরে, ছেলে তো জিনিয়াস। তখন আমি তার কাছে গিয়ে বললাম আরে, তুই এটা কিভাবে মিলাস। আমাকে শিখিয়ে দে। এরপর সে আমাকে আধা ঘন্টা ধরে বুঝালো আমি কেন এটা মিলাতে পারবো না। এটা আমার কাজ না। এরপর আমিও মেনে নিলাম যে আমি এটা মিলাতে পারব না। ভুলেই গেলাম রুবিক্স কিউবের কথা।

রূপকঃ আমি ভেবেছিলাম এরপর থেকেই আপনার কিউবিং শুরু। শেষে তো বললেন, আবার কিউবের কথা ভুলে গেলেন!

ঋভু ভাইয়াঃ আসলে আমার জীবনের কাহিনি সিনেমার মতো। আগে থেকে কিছু প্রেডিক্ট করা খুবই কঠিন।

রূপকঃ হাহাহা।

ঋভু ভাইয়াঃ আচ্ছা, এখন বলি আমার কিউবিং কিভাবে শুরু হলো। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারী মাসের ১৪ তারিখ ঢাকা কলেজে একটা সায়েন্স ফেয়ার ছিলো। আমি সেখানে প্রজেক্ট নিয়ে গেছিলাম। সেখানে রুবিক্স কিউব কপিটিশন হয়। আমি ভাবলাম- যাই দেখি, ওরা বুদ্ধিসুদ্ধিওয়ালা মানুষ, কিভাবে মিলায়। কম্পিটিশনে যে ছেলেটা ফার্স্ট হয়েছে তার টাইমিং ছিলো ১ মিনিট ১৬ সেকেন্ড। তার সাথে আগে থেকেই কিছুটা পরিচয় ছিলাম। ওর কাছে গিয়ে বললাম “আমাকে একটু শেখা, তুই তো জিনিয়াস।” এরপর ও বললো- আমি তো কাউকে আমার কিউব ধরতে দেই না। আমি পারবো না। এরপর আমি ঐযে যারা ঐ কম্পিটিশনে সেকেন্ড আর থার্ড হয়েছিলো তাদের কাছে গিয়ে বললাম শিখাতে বললাম। ওরা খুব ভালো ছিলো। আমাকে বললো এটা তুমি কতদিনে শিখতে পারবা তার কোন বাধাধরা নিয়ম নেই। কারো ১ দিন লাগে আবার কারো ২ মাস লাগে। সেটা তোমার উপর ডিপেন্ড করে। এই প্রথম কেউ আমাকে আশা দিলো যে আমিও এটা পারব। এরপর তারা আমাকে আধাঘন্টা ধরে কিভাবে কি করতে হয় তা বলে। আমি তখনই ওখানে বসে ৩৫ মিনিটের মধ্যে কিউবিটা মিলাই।

রূপকঃ মাত্র ৩৫ মিনিটে?! আমার প্রথমবার কিউব সলভ করতে সময় লেগেছিলো ৩ দিন। আচ্ছা, কিউব মেলানোর তো অনেক মেথড আছে। যেমন , আমি যখন শিখি তখন {লেফট, ডাউন, লেফট ইনভার্স, ডাউন ইনভার্স}এইসব সূত্র দিয়ে শিখেছি। আপনি কিভাবে শিখেছিলেন?

ঋভু ভাইয়াঃ হ্যা, হ্যা, আমিও এভাবেই শিখি। তারা ৭টা সূত্র লিখে দেয় আর কোনটা লেফট –রাইট এগুলা দেখিয়ে দেয় শুধু। সূত্রগুলো কিভাবে দিতে হয় এগুলা আমি নিজেই বের করেছিলাম। এখন আমার তো কোন কিউব নাই। কি করবো! আমার এক ফ্রেন্ড ছিলো অর্ণব। ও আমার খুব ভালো ফ্রেন্ড। ওর কাছ থেকে ৭ দিনের জন্য ওর কিউবটা ধার করেছিলাম। কিন্তু মজার ব্যপার হচ্ছে, ঐ কিউবটা এখনো আমি তাকে ফেরত দেই নাই।

রূপকঃ
 এর মানে এখনো কি আপনার কাছে ঐ কিউবটা অক্ষত আছে?

ঋভু ভাইয়াঃ না, অক্ষত নাই। আগেরকালের কিউব তো, হালকা। মাটিতে পড়ে গেলেই ভেঙ্গে যেত। সেটাও ভেঙ্গে গেছে। অর্ণব তখন ২ মিনিটে মিলাতে পারতো। আমার লাগতো ৬ মিনিট। আমি অবাক হয়ে ভাবতাম - মানুষ ২-৩ মিনিটে এই জিনিস কিভাবে মিলায়। এরপর আস্তে আস্তে মিলাতে মিলাতে একসময় অর্নবকে হারিয়ে দিলাম।

রূপকঃ আপনার প্রথম কিউব কম্পিটিশন কোনটা ছিলো?

ঋভু ভাইয়াঃ আমি ফেব্রুয়ারির ১৪ তারিখে কিউব মেলানো শিখি আর এপ্রিলের ২০ তারিখে গভ. ল্যাবেরেটরি স্কুলে একটা কিউব কম্পিটিশন ছিলো। আমি সেখানে গেলাম। কম্পিটেটরদের স্পিড দেখে আমার মনে হলো যদি ফার্স্ট নাও হতে পারি তাহলে সেকেন্ড বা থার্ড হবোই। আচ্ছা সিয়াম, তোমার কি আইডিয়া আছে ঐ কম্পিটিশনে আমার রেজাল্ট কি ছিলো?

রূপকঃ ফার্স্ট হয়েছিলেন। তাই কি?

ঋভু ভাইয়াঃ হাহা, একদম না। আমি তোমাকে বললাম না আমার কাহিনী একদম সিনেমার মতো... হয়েছে কি, ঐ কম্পিটিশনে কিউব মিলাতে গিয়ে আমার কিউবটা ভেঙ্গে যায় এবং আমি ডিসকোয়ালিফাইড হয়ে যাই। এরপর আমার প্রচন্ড জেদ হয়। কেনো এরকম হলো... এরপর আমি ঠিক করি কিউবিং এর ন্যাশনাল রেকর্ড ব্রেক করবো আমি। ঐসময় রাশিদ আবিদ নামে একজন ভাইয়া ছিলো । তিনি তখন ছিলেন ন্যশনাল চ্যম্পিয়ান। উনার টাইমিং ছিলো ২৪ সেকেন্ড। তারপর এক প্রকার পড়ালেখা বাদ দিয়েই কিউব মেলানো শুরু করি। দিনে ৯-১২ ঘন্টাই কিউব নিয়েই থাকতাম। প্রতিদিন ৬০০-৭০০ বার মিলাতাম। একটাই ইচ্ছা তখন অনেক বড় ব্যবধানে ন্যশনাল রেকর্ডটা ব্রেক করতে হবে। কয়েকদিন পর আমার এসএসসি পরীক্ষা। এর মধ্যেই এই পাগলামী! কিছুদিন পর ফেব্রুয়ারীর ৫ তারিখে রেসিডেন্সিয়ালে একটা কিউব কম্পিটিশন হয়। তখন আমার এসএসসি পরীক্ষা চলছিলো। তাও আমি যাই। এরপর ঐখানে আমি প্রথম ন্যাশনাল রেকর্ডটা ব্রেক করি। ২৪ সেকেন্ড ছিলো, আমি করি ১২.৪৯ সেকেন্ডে।

রূপকঃ ওয়াও, একদম অর্ধেক। আচ্ছা এটা তো ৩ ইন্টু ৩ কিউব ছিলো তাই না?

ঋভু ভাইয়াঃ হ্যা। অবশ্য বাংলাদেশে শুধু ৩ ইন্টু ৩ কিউবের কম্পিটিশনই হয় , অন্য কোন কিউবের কম্পিটিশন সেরকম হয় না। আমি যদিও সব কিউবই মিলাই। যাই হোক, তখন ১২.৪৯ ছিলো এক্সট্রাআর্ডিনারি। সবাই্তো খুব অবাক। এরপর ২-৩ টা মিডিয়াতে এই নিউজ আসে। এরপর অবশ্য আমি আমার নিজের রেকর্ডটাই আরো ৪ বার ব্রেক করি। টাইমিংগুলো ছিলো, প্রথমটাতো ১২.৪৯ এরপর ১০.৯১, ১০.২৪, ৯.৪১, ৬.৫৫

রূপকঃ কিউবিং-এ আপনার ন্যাশনাল আর ইন্টারন্যাশনাল মেডেল মোট কয়টা?

ঋভু ভাইয়াঃ একটু ভাবতে হবে। আ...... ইন্টারন্যশনাল এ্যাওয়ার্ড ১৩ টা আর ন্যশনাল মনে হয় ৭৩ টা।

রূপকঃ ওয়ার্ল্ড বেস্ট কত? আর ওয়ার্ল্ড র‍্যাঙ্কিং কত আপনার?

ঋভু ভাইয়াঃ
 ওয়ার্ল্ড বেস্ট টাইমিং ৪.৭৩ সেকেন্ড আর ইন্টারন্যাশনালি অফিশিয়াল টাইমিং আমার ৭.১৮ সেকেন্ড। র‍্যাঙ্কিং ১৩৪ প্রায় ৭৪,৩০১ জন কম্পিটিটরদের মধ্যে। এই ৭.১৮ টাইমিংটা গত ১ সপ্তাহ আগে ইন্ডিয়াতে করি।

রূপকঃ এত এত মেডেল, পুরষ্কার এগুলোর মধ্যে কোনটা আপনার কাছে সবচেয়ে বেশি আনন্দদায়ক।

ঋভু ভাইয়াঃ (হাসতে হাসতে) টাফ কোশ্চেন। সবগুলোতেই আনন্দ আছে। তবে এই বছরের ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপটা মনেহয় আমার জন্য বেশি আনন্দের। এরমাঝে গতবছর আমার একবার এক্সিডেন্টের কারণে সেকেন্ড হয়েছিলাম। এবার আবার আগের অবস্থানটা ফিরে পেলাম। তাই মনে হয় এটা বেশি আনন্দের।

রূপকঃ আচ্ছা ভাইয়া, কিউব, সুডোকু, দাবা এগুলো তো একই ধরনের পাজল। দাবা আর সুডোকুতেও কি আপনার ইন্টারেস্ট আছে?

ঋভু ভাইয়াঃ ইন্টারেস্ট আছে। কিন্তু দাবাতে খুব বেশি নাই। তবে সুডোকু মিলাই। সুডোকুতেও ৩ টা প্রাইজ পেয়েছি বিভিন্ন সায়েন্স ফেয়ারগুলোতে।

রূপকঃ আপনার সুডুকো সলভের টাইমিং কত? আর সুডুকোর তো অনেক লেভেল আছে, যেমন- ইজি, মিডিয়াম, হার্ড, এক্সট্রিম, ইভিল। সায়েন্সফেয়ারগুলোতে কোনটা ছিলো?

ঋভু ভাইয়াঃ আমার সুডুকোর টাইমিং ২ মিনিট। এক্সট্রিম আর ইভিল দিত না। সাধারণত হার্ডটাই ছিলো।

রূপকঃ আচ্ছা ভাইয়া আপনার কি কিউবের কালেকশন আছে?

ঋভু ভাইয়াঃ না, আমার যেসব কিউব দরকার সেসব কিউবের বাইরে কোন কিউব নাই। যেসব কিউবের কম্পিটিশন হয় সেসবই আমার কাছে আছে। যেমন, একটা কিউব আছে মিরর কিউব। এটা দেখতে খুব সুন্দর তাই মেয়েরা এটা খুব বেশি পছন্দ করে। আমি এটা মিলাতে পারি কিন্তু যেহেতু এর কোন কম্পিটিশন নাই তাই এই কিউবটাও আমার কাছে নাই।

রূপকঃ কিউবিং এ আপনার ইন্সপাইরেশন কি?

ঋভু ভাইয়াঃ আমি নিজেই। কারণ এখনো আমি মাঝেমাঝে ঘুম থেকে উঠে যখন দেখি টাইমিং ১০-১২ সেকেন্ডের কম করতে পারছি না তখন হতাশা তৈরী হয়। আবার নিজেরই মনে হয় আমি ই তো ছিলাম যে কিনা ৬ মিনিটের কমে মিলাতে পারতাম না আবার আমি ই ৬ সেকেন্ডে মিলাইতাম। আমি মনে করি মানুষের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা সে নিজেই।

রূপকঃ অনেকে মনে করে করে কিউব মিলানো সময়ের অপচয়। তাদেরকে আপনি কি বলবেন?

ঋভু ভাইয়াঃ 
কিউবিং যেহেতু ব্যাক্তিজীবনে খুব বেশি প্রভাব ফেলছে না সে হিসেবে সময়ের অপচয়ই। আমরা অনেক ভাবেই সময়ের অপচয় করি। কেউ হয়তো কম্পিউটারের গেম খেলে সময় অপচয় করে অনেকে কিউবিং করে। যে যেভাবে নিজেকে এন্টারটেইন করতে পারে। আমি যেমন ফিফা ১৬, ১৭ না খেলে কিউব মিলিয়ে নিজেকে এন্টারটেইন করতে পারি। আর কিউবিং করলে কিছু দক্ষতা বাড়ে। যেমন আঙ্গুলের স্পিড, রিফ্লেক্সেস, টাইপিং স্পিড, লেখার স্পিড, দ্রুত চিন্তা করতে পারা, কালার রিকগনাইজেশন ইত্যাদি। piano tiles নামে একটা গেম আছে। এটাতে নিচ থেকে খুব দ্রুত পিয়ানোর কর্ড উপরে উঠে , সেগুলোতে আঙ্গুল লাগিয়ে স্কোর করতে হয়। এই গেমের জন্য মাঝেমাঝে ফ্রেন্ডদের কাছে গালি খাইতে হয়। যেখানে ওদের হাইয়েস্ট স্কোর ৭০০ সেখানে আমার ২৫০০+ হয়ে যায়।

রূপকঃ আপনি কি চান কিউবিং কে অলিম্পিকে দেখতে?

ঋভু ভাইয়াঃ (হাসতে হাসতে) অবশ্যই চাই। কিন্তু আমি এটা সমর্থন করিনা। কারণ আমি মনে করিনা অলিম্পিকে যাওয়ার জন্য কিউবিং সেধরনের গেম না।

রূপকঃ আপনি তো কিউবআড্ডা শুরু করেন। এটার সম্পর্কে ছেলেমেয়েরা কিভাবে জানতে পারে?

ঋভু ভাইয়াঃ
 আসলে এটা একটা ভুল ধারনা যে আমি কিউবআড্ডা শুরু করি। আমি অন্যদের তুলনায় নতুন। এখন আমার পরে যে ছেলেটার টাইমিং সে আমার চেয়ে আড়াই বছর আগে কিউব সলভ করা শুরু করে। কিউব আড্ডা ২০১১ সাল থেকেই হয়ে আসছে। প্রতি মাসেই হয় । একেক মাসে একেক জায়গায়। তবে এমাসে রমজানের জন্য হবে না। আর কিউবআড্ডার ফেসবুক গ্রুপ

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন