একদল বৃষ্টিভেজা ক্যামেরাম্যানের গল্প...



শাফকাতের বড়াপু নুসাইফাপু রাতে নক দিয়ে বললেন,"ইভেন্টে ফটোগ্রাফার আর ভিডিওগ্রাফার লাগবে"
"কোন ইভেন্ট আপু?"
"রাইড ২০১৭"
"সাইকেল র‍্যালি?"
"হ্যা, তোরা ফটোগ্রাফার আর ভিডিওগ্রাফার নিয়ে মানিক মিয়া এভিনিউ চলে আসবি সকাল ৭.০০টার আগে, ডুবাইস না আমাদের"
"আর আপু, ব্রেকফাস্ট করতে পারবো না এত সকালে, ব্যবস্থা কইরো :p"
আমরাও রেডি, প্ল্যান প্রোগ্রাম করে, গাট্টি বোঝা রেডি করে ঘুমাতে গেলাম আগের দিন রাতে। 
(আমার আবার সব কথা মনে থাকে না, কথোপকথন এদিকওদিক হতে পারে)

পরদিন সকাল, প্রকৃতি বড়ই রাগান্বিত।
টিপটিপ থেকে ঝুম বৃষ্টি, কোনো ফটোগ্রাফারই এখন তার ক্যামেরা ভেজাতে বের করবে না -_- 
আমি কোনো মতে ক্যামেরা আর ফোন পলিথিনে মুড়ে হাটু পর্যন্ত কাপড় তুলে ৬.৪৫এ বেড়িয়ে পড়লাম। রাস্তায় হাটু পানি, রিক্সা দিয়ে সেটা পার হয়ে বাসে উঠলাম। সবাই আমাকে ফেলে গেছে, কারন লেইট করেছি। আবার ফোনে শাফকাত জানালো, ভেতর দিয়ে শর্ট কাটে আসতে গিয়ে নাকি মোজাহিদ আরেক চিপা গলিতে হাটু পানিতে আটকা পড়েছে -_- আমি তখন মিরপুর লিঙ্কের এক বাসে -_- বাস যখন আগারগাও পাস করছিলো, শাফকাতের ফোন, "দোস্ত, টাকা ভাংতি নাই, বাজারের একটাও দোকান খোলা নাই, কি করবো :p" আমি আর কি জবাব দিবো? পরে মনে হয় কোনো ভাবে ভাংতি করে বাসে করে মানিক মিয়া এভিনিউতে এসেছিলো ও।

"The legendary মোজাহিদ" গ্রাফারঃ তালহা

আমি অনেক আগেই বাস থেকে নেমে দাড়িয়েছিলাম আসাদ গেইট আর মানিক মিয়া এভিনিউয়ের মোড়ে। কোনো মানুষ বা সাইক্লিস্ট নেই। আমি ভাবলাম, বৃস্টির জন্য ইভেন্ট ক্যান্সেল নাকি। হঠাৎ বাড়লো বৃষ্টি, আমি দৌড়ে একটা চায়ের দোকানের ছাউনিতে ঢুকলাম। ফোন দিলাম শাফকাতকে, ও নাকি খামারবাড়ির দিকে, আমার দিকে আসতেছে। আমিও আগাতে শুরু করলাম, কিন্তু ওর টিকিটাও দেখতে পেলাম না। আবার ফোন দিলাম, ও নাকি আসাদগেইট। আমার তো মাথা বৃষ্টিতে ভিজেও গরম, আমার সামনে দিয়ে চলে গেলো ক্যামনে? পরে শুনলাম অপজিট রাস্তায় ছিলো ও। যাই হোক, সবাই দেখলাম শাফকাতের সাথে আছে, মাথায় ছাতা। আমিই একমাত্র দলছুট, মাথা ভেজা -_-

"ল্যাপটপ বেদনায় কাতর ইভান" গ্রাফারঃ তালহা


সবাই একত্র হবার পর মিলিত হলাম ইভেন্ট মেম্বারদের সাথে, বৃস্টির জন্য লোকেশন বদলে নিয়েছিলেন আপুরা। যাই হোক, বৃস্টির মাঝেও সাহস করে এক হাতে ছাতা আর আরেক হাতে ক্যামেরা নিয়ে কাজ শুরু করলাম সবাই। আমার একটা জিনিস আমার নিজের কাছেই ভাল লাগে, আমার সব কিছুতেই ইন্টারেস্ট :p তাই আমার ফ্রেন্ড সার্কেল অনেক বড়। আমাকে সবাই চিনতো আইটিআতেল হিসেবে, অনেকে চিনে গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে, আবার অনেকে সেদিন দেখলো ফটোগ্রাফার হিসেবে (আমি আগে কখনো ফিল্ড ফটোগ্রাফি বা সিনেমাটোগ্রাফিতে কাজ করিনি :p)
মোজাহিদ আর তালহা কিভাবে যে এক হাতে ছাতা আরেক হাতে ডিএসএলআর ধরে ছবি তুলেছিলো আল্লাহ জানে। আর আমার কাজ ছিলো সিম্পল, মনোপডে ক্যামেরা আটকিয়ে খালি ভিডিও করো :p আরেকহাতে ছাতা ধরে রাখো। সবচেয়ে বেশি মুশকিলে ছিলো ইভান, আমাদের নিউয়েস্ট মেম্বার, তার একটাই ভয়, যদি মোর ল্যাপটপ ভিজে যায় :p

ভিডিওর কাজ আমরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে করেছি। ফার্মগেট ব্রিজের উপরের থেকে ছবি নেয়ার জন্য মোজাহিদ আর ইভান আগেই সিএনজি করে চলে গিয়েছিলো পজিশন নিতে। ইমন ভাইয়া বললেন, আমরা ট্রাকে করেই র‍্যালি ফলো করতে পারবো, আলাদা ট্রান্সপোর্ট লাগবে না। আমরা তাই স্টার্ট পয়েন্টের শট নেয়া শেষ করে ট্রাকের পেছনের বেডে উঠে গেলাম। আর কাপাকাপি হাতে ভিডিও করতে লাগলাম। কারণ রাস্তা এমনিতেই ভালো না, আবার জ্যামের জন্য গাড়ি একটু পর পর হার্ড ব্রেক দিচ্ছিলো, উলটে পড়ছিলাম আমরা এ ওর ওপর। ফার্মগেট ব্রিজের নিচে এসে ট্রাক একটু থামল মোজাহিদ আর ইভানকে পিক করার জন্য। তারপর হঠাৎ করেই জ্যামে আটকে গেলো ট্রাক। আর সাইকেল র‍্যালি যেহেতু, এগিয়ে গেলো ওরা।

"শাফকাত আর নুসাইফাপু" গ্রাফারঃ তালহা

কেবল ওয়ারলেস আর মোবাইলে যোগাযোগ ছিলো। আমরা গাড়ি নিয়ে ঢাকা ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়লাম। কথা ছিলো শহীদ মিনারে শেষ হবার। কিন্তু কোনো এক রাজনৈতিক দলের অনুষ্ঠান থাকায় তৎখানিক ভাবে সেটা টিএসসিতে শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়া হয়। আমরা টিএসসিতে নেমেই ইভেন্টের শট নেয়া শুরু করি আগের মতো। শপথ নেয়ার ভিডিওতে একটা মজার ঘটনা ছিলো। মোজাহিদ ফুল ফ্রেইম ভিডিও শট নিচ্ছিলো, আমাকে জানায়নি। আমি হাতে ক্যামেরা নিয়ে স্ট্রেইটলাইন শট নিয়ে পুরো ওর ফ্রেমের মাঝে পরে ওর ফিল্ম বাতিল করে দিয়েছিলাম। যদিও যেটুকুতে আমি ছিলাম না, ওটুকু ব্যবহার করা হয়েছে। যাই হোক, ইন্টারভিউ নেয়ার পর ইভেন্ট শেষে যে যার মতো অফিস কিংবা ভার্সিটিতে রওয়ানা হয়ে গেলেন। বাজে তখন প্রায় সাড়ে ৯টা থেকে ১০টা। আমরা আবার ট্রাকে উঠে পড়লাম, কারন ট্রাকটা আবার আমাদের বাসার দিকেই ব্যাক করবে। ট্রাক মাঝ পথে যেতে না যেতেই আবার প্রচন্ড বৃষ্টি। ট্রাকের পেছনে উঠে বৃষ্টিতে ভেজার আনন্দ অন্য রকম। আমরা পথে কাজীপাড়ায় নেমে গেলাম, কারন নুসাইফাপুর কাজ করে দেয়ায় আপু আমাদের ট্রিট দিবে বলেছিল, আর আপুও কথা রেখেছে :)

"ভাইয়া, একটা ছবি তুইল্লা দিবেন?" গ্রাফারঃ মোজাহিদ

বাসায় ব্যাক করতে করতে প্রায় আড়াইটা এবং, কলেজ মিস বলে পরেরদিন স্যারের ঝাড়ি শুনেছি সবাই :p
আর এডিটের কাজ করেছি আমি আর তালহা মিলে, তালহা মিউজিক খুজে দিয়েছে, আমি ভিডিও ঠিক ঠাক মতো এডিট আর মোশন গ্রাফিক্সের কাজগুলো করেছি। যাই হোক, নতুন হিসেবে আউটকাম আমাদের কাছে আউটস্ট্যান্ডিং হয়েছে বলে মনে হয়েছে। সাথে থাজবে সবাই। চাইলে ফিল্মটি দেখে নিতে পারো,

একদল বৃষ্টিভেজা ক্যামেরাম্যানের গল্প... একদল বৃষ্টিভেজা ক্যামেরাম্যানের গল্প... Reviewed by Tawsif Torabi on ৩:১৪ PM Rating: 5

কোন মন্তব্য নেই