বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮

হয়ে যাও রূপকের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি





প্রিয় বন্ধুরা,

সৃস্টির পর থেকে এখন পর্যন্ত রূপকের প্রতি তোমাদের অপরিসীম ভালোবাসা প্রতিমুহুর্তে তোমাদের মতো করে রূপককে সাজিয়ে তুলতে আমাদের উৎসাহিত করেছে। তোমাদের জন্যই এই রূপক। আমাদের সকল পরিশ্রম তোমাদের জন্যই। যদিও ছোট গন্ডির মধ্যে থেকে প্রতিমাসে লেখা সংগ্রহ, সংযোজন, সম্পাদনা আর তারপরে ই-বুক ইলাস্ট্রেশন আর ভবিষ্যতে তোমাদের সবার কাছে রূপক সহজে পৌছে দেবার জন্য রূপকের ডেস্কটপ আর অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ আর ওয়েবসাইটের ডেভেলপমেন্ট সহ নানাবিধ কাজ করতে গিয়ে রূপকের স্বল্পসংখ্যক কর্মীদের কাজ করতে করতে নাভিশ্বাস উঠে যাবার জোগাড় হয়। এমনকি পর্যাপ্ত কন্টেন্টের অভাবে রূপকের বেশ কয়টি সংখ্যা প্রকাশে ব্যার্থ হয়েছিলাম আমরা। এজন্য আমরা আন্তরিক ভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। ভবিষ্যতে যেনো এই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে কথা চিন্তা করে রূপকের সকল কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে এবং রূপকের পরিসীমা বিস্তৃত করার লক্ষ্যে সেই সাথে পাঠক পর্যায়ে রূপকের অ্যাক্টিভিটি বাড়ানোর উদ্দেশ্যে আমরা একটি সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছি। আর সেটা হল, আমরা স্কুল এবং কলেজ পর্যায়ে রূপকের ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর কিংবা ক্যাম্পাস প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া আরম্ভ করবো মার্চ মাস থেকে। বাংলাদেশের সর্বস্তরের স্কুল, কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মাঝে রূপক ছড়িয়ে দেয়াই আমাদের স্বপ্ন। এবার এই স্বপ্নের অংশীদার হতে পারো তোমরাও। নিজ নিজ ক্যাম্পাসে যদি তোমরা রূপকের প্রতিনিধি হতে চাও এবং নিম্নোক্ত শর্তগুলো যদি তোমার অনুকুল বলে মনে হয় তাহলে আজই প্রতিনিধি ফর্মটি পুরন করে ইমেইলের ইমেইলের অপেক্ষা করো!

তার আগে বলে নিই, যে কেউ ক্যাম্পাস প্রতিনিধি হতে পারবে, প্রত্যেক ক্যাম্পাস থেকে একজন ছেলে এবং একজন মেয়ে, গার্লস কিংবা বয়েজ কলেজ কিংবা স্কুল হয়ে থাকলে দুজনেই ছেলে কিংবা মেয়ে প্রতিনিধি হবে। স্কুল এবং কলেজ একসাথে হলেও দুজন প্রতিনিধি থাকবে।




শর্তগুলো হলো,

১. নিজ ক্যাম্পাসে রূপকের পরিচিতি তুলে ধরতে হবে। প্রকাশের জণ্য লেখা আহবান করতে হবে, সংগ্রহ করতে হবে এবং লেখা পাঠাতে উৎসাহী করতে হবে।

২. রূপকের বিভিন্ন ইভেন্ট সম্পর্কে নিজ নিজ ক্যাম্পাসে যথাসম্ভব প্রচারকার্য চালাতে হবে। এছাড়াও নিজ ক্যাম্পাস থেকে ইভেন্টগুলোয় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহন করতে হবে।

৩.. কোনো বার্ষিক মিটিং আয়োজন করা হলে তাতে অংশগ্রহনের সর্বোচ্চ চেস্টা করতে হবে।

৪. যদি কোনো বিশেষ কাজে পারদর্শী হয়ে থাকো, ফর্মে উল্লেখ করো। রূপকের অ্যাডমিন্সট্রেশন টিমেও চলে আসার সুযোগ পেয়ে যাতে পারো তবে!

৫. সর্বোপরি রূপকের কল্যানে ব্রতী হয়ে এগিয়ে আসা দিনগুলোতে রূপকের চলার পথকে সুগম করার মানসিকতা ধারন করতে হবে।

তাই আর দেরি নয়, আগ্রহীরা এখনই ফর্ম পুরন করে ফেলো। তোমাদের সর্বাত্মক অংশগ্রহন কামনা করে তোমাদের জণ্য শুভকামনা রইলো।

রূপক টিমের পক্ষ থেকে,
ইমরান হোসাইন হৃদয়
সিনিয়র ফিচার রাইটার, এইচআরএম টিম মেম্বার


ফর্ম লিঙ্ক,
https://rupok.net/form/index.php?key=campusambassador2018

আরোও জানতে রূপকের ফেসবুক পেইজে মেসেজ করো,https://www.facebook.com/rupok.net/

রবিবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০১৮

বেজবাবাকে উৎসর্গ...

দিনটা ছিল ২০১৭ সালের আগস্টের ২৬ তারিখ,
একদিন কলেজ শেষে আমি, তুরাবি হেটে হেটে যাচ্ছিলাম মামার দোকানে চা খেতে নিজেদের ক্লাসের প্যারা থেকে একটু হালকা করতে। তখন মাথায় হঠাৎ করে একটা ভাবনা এলো। বললাম তুরাবিকে যে “আমরা কিন্তু বেজবাবাকে নিয়ে একটা ট্রিবিউট দিতে পারি। তার কাছে এর মাধ্যমে আমাদের কথা পৌঁছাতেও পারি যে আমরা বেজবাবার সাথে আছি। উনি তার অসুস্থতারর সাথে লড়বার সময় যাতে না ভাবেন যে কেউ নেই তার সাথে।” তুরাবি বলল “ঠিক আছে, করা যায়” এরপরেই শুরু হলো ইভেন্ট পরিচালনার কাজ। ঠিক করে নিলাম যে “অর্থহীন” ব্যান্ডের “আমার প্রতিচ্ছবি” গানটি করব। কারন এই গানটির কথা গুলো সম্পুর্নভাবে বেজবাবার প্রতি আমাদের চিন্তাভাবনার সাথে মিলে যায়।



ইভেন্টের আগে আমাদের হাতে সময় ছিল মাত্র ২ দিন। এর মাঝেই আমাদের পুরো ইভেন্টের কাজ সম্পন্ন করতে হয়েছিল। ফেসবুকে ইভেন্ট পেজ খোলবার পর দেখা গেল প্রায় ২০০ জনের মত আমাদের ইভেন্টে আসার জন্য “going” দিয়েছে। আমরা তখন “উদ্যোগ” অর্গানাইজেশন কে বললাম যে আমদের ইভেন্টে ভলান্টিয়ার হিসেবে থাকার জন্য। খুব ভালো লেগেছে যে তারা প্রথম বলাতেই রাজি হয়ে গেল এবং আমাদের ইভেন্টিতে কোনো দাবি ছাড়াই তারা ভলান্টিয়ারিং করল। সাথে টেকনোলজি পার্টনার হিসেবে যুক্ত হতে ইচ্ছুক হলো “Rampage Squad”




ইভেন্টের আগের দিনে আমরা প্রায় ২০-২৫ জন আমার এক বন্ধু “ফাইজান” এর বাসার চিলেকোঠার ঘরে একটি রিহার্সাল এর আয়োজন করলাম। প্রথমদিকে সবার একটু কষ্ট হচ্ছিল মিলাবার। কিন্তু প্রায় ১০ বারের মত প্র‍্যাকটিস করার পর দেখা গেল যে আমরা সবাই একসাথে মিলিয়ে নিয়ে গানটি গেতে পারছি। তখন ফাইনাল রিহার্সাল করলাম এবং সবাই বাসায় গিয়ে পরের দিনের জন্য প্রস্তুতি নিল।

Image may contain: 8 people, people standing and outdoor

পরের দিন সকালবেলা উঠে নিজে আরেকবার গানটি আমার সাউন্ডবক্সে ছেড়ে কাহন দিয়ে প্র‍্যাকটিস করলাম। কারন ইভেন্ট পরিচালনার পাশাপাশি আমি কাহন বাজানোর দায়িত্বে ছিলাম। তারপর কাহনটি নিয়ে রওনা হলাম ফাইজানের বাসার উদ্দেশ্যে। কারন ওইখান থেকেই আমরা আমাদের ইভেন্টের ভেন্যুতে যাওয়ার কথা ছিল সবাই মিলে। আমাদের ইভেন্টের ভেন্যু ছিল জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান (National Botanical Garden). আমরা প্রথমে ফাইজানের বাসা থেকে মিরপুর-১০ নাম্বার হয়ে মিরপুর-২ নাম্বার স্টেডিয়াম এর সামনে সম্পুর্ন টিম একত্রিত হলাম। মোটামুটি ২০ জনের মত একটি টিম। যেখানে নিজেদের পরিচিত কিছু মিউজিসিয়ানস এবং আমাদের পার্টনার “উদ্যোগ” ও “Rampage Squad” এর মেম্বাররা ছিল। আমরা এরপরে বাসে করে ভেন্যুতে পৌছালাম। এরপরে যে যার মত নিজেদের কাজ ভাগাভাগি করে নিল এবং আমরা আমাদের নির্ধারিত স্থানে গিয়ে বসে পড়লাম। জায়গাটি ছিল বোটানিক্যাল গার্ডেনের একটি সবুজ মাঠ। যেখানে আমরা ঠিক করেছিলাম যে আমরা সবাই খোলা সবুজ মাঠের নিচে বসে গান করব। আস্তে আস্তে বাহিরের মিউজিসিয়ানরা আমাদের সাথে যোগ দিতে থাকল। যখন আমি দেখলাম যে পর্যাপ্ত লোকজন এসে পড়েছে তখন আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে প্র‍্যাকটিস শুরু করা যায়।

কিন্তু প্রথমেই খেলাম একটি বড় ধাক্কা। কারন আমি “আমার প্রতিচ্ছবি” গানটি রি-মেক(remake) করেছিলাম ট্রিবিউট দেওয়ার জন্য। কিন্তু দেখা গেল আমার করা রি-মেকের সাথে বাহিরের মিউজিসিয়ানদের মিলিয়ে নিতে অনেক সমস্যা হচ্ছে। অনেকবার রিহার্সাল করেও হচ্ছিল না। তখন সিদ্ধান্ত নিলাম যে গানটি অরিজিনাল ট্র‍্যাকের মত করেই গাবো কিন্তু বিট বা তাল অপরিবর্তিত রাখলাম। দেখা গেল এতে প্রথমবারেই সবাই অনেক ভালোভাবে গানটি করতে পারলো। তারপর আবার একটি ফাইনাল রিহার্সাল দিলাম। এবং যখন দেখলাম যে সবাই গানটি সবার সাথে মিলিয়ে নিতে পেড়েছে এবং এখন আমরা ভিডিও করার জন্য ফাইনাল টেক নিতে পারি তখন আমার মাথায় একটি বুদ্ধি এলো। আমি সবাইকে বললাম সবার জন্য ১০ মিনিটের একটি বিরতি নিজেকে রিফ্রেশ করে নেওয়ার জন্য। আর এটা অনেক দরকারও ছিল। কারন টানা ২ ঘন্টা প্র‍্যাকটিস করার কারনে সবার দেহ ও মন কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছিল। সবাই এতোটাই ক্লান্ত হয়ে গেসিল যে ১০ মিনিটের ব্রেকে ৩০ মিনিট লাগিয়ে দিল। কিন্তু এতে একটি সুবিধা হয়েছিল। সবার মন চাঙা হয়ে উঠেছিল এবং সবার মুখে একটা শান্তির প্রভাব দেখলাম। হয়তো বা এই শান্তির প্রভাবটি ছিল যে এত বার প্র‍্যাকটিস করার পর পারফেক্ট কম্বিনেশন পাওয়ার আনন্দ। অথবা হতে পারে ২ ঘন্টা ধরে আমার অত্যাচার সহ্য করার পর আধা ঘন্টা মুক্তির আনন্দ 😂

Image may contain: 5 people, people sitting, outdoor and nature

যাই হোক, এরপরে আমরা ফাইনাল টেক দিলাম। মানে ভিডিও শুটিং করার জন্য একসাথে সবাই গানটা করলাম। এবং দেখা গেল খুব ভালোভাবেই সম্পন্ন করলাম। সবাই এতোই ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল যে বাড়ি যাওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করা শুরু করলো।


আমাদের ইভেন্টটি সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। কিন্তু আমাদের পরিকল্পনা ছিল যে আমরা একটি বাক্স রাখবো যেখানে সবাই তাদের ইচ্ছা এবং স্বার্থ অনুযায়ী সাহায্য প্রদান করবে এবং সেটি বন্যায় কবলিত মানুষদের সাহায্যে জন্য “উদ্যোগ” সংস্থাকে প্রদান করা হবে। কিন্তু সেই বাক্সটি আমাদেরকে নিয়ে ঢুকতে দেওয়া হয়নি এবং সবাই এতোই ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিল যে সেই কথা কারো মাথাতেই ছিল না। তাই আর কোনো সাহায্য করতে পারি নি আমরা “উদ্যোগ” কে। এমনকি কোনা গ্রুপ ছবি তোলবারও সুযোগ পেলো না আমাদের ইভেন্ট ফটোগ্রাফার রা সবার তাড়াহুড়োর জন্য। কিন্তু এটাই স্বাভাবিক। ৩ ঘন্টা গান গাওয়ার পর সবার একটাই চিন্তা, “বাড়ি গিয়ে খেয়েদেয়ে ঘুম দিব।”


এবার আসি আমাদের কিছু ভুল এবং ব্যর্থতার কথায়। আমাদের ফটোগ্রাফার সাহেব ‘মোজাহিদ’ তার ক্যামেরা চার্জ করতে ভুলে গিয়েছিল। যার কারনে মহাসাহেবের ক্যামেরা অর্ধেক ইভেন্টের সময়েই বন্ধ হয়ে যায়। আর অন্যদিকে ‘Rampage Squad’ থেকে করা ভিডিও ফাইলটি হারিয়ে যায়। মানে হয়তো কারো ভুলে ডিলিট হয়ে গিয়েছে অথবা ভিডিও সেভ হয়নি। ভাগ্যিস আমাদের তুরাবি সাহেব তার ২ টি ছোট ডিজিটাল ক্যামেরা ব্যাকআপ হিসেবে নিয়েছিল এবং ওটা দিয়ে করা ভিডিও ফাইল দিয়েই পরে আমাদের ট্রিবিউট ভিডিও করা হয়েছিল।




ইভেন্টে আমারও কিছু ব্যক্তিগত লোকসান হয়েছে। না! না! টাকার লোকসান নয়। আমার কাহন টা কোনো মহা-ব্যক্তি হাত থেকে ভুলে ফেলে দিয়েছিল এবং হাল্কা ক্ষতি হয়েছে তাতে কাহনের। কিন্তু সেটা ব্যাপার না। কারন দুর্ঘটনা যেকোনো সময়ই ঘটে যেতে পারে।আরেকটি বিষয় যেটি না বললেই নয় সেটি হলো, আমার বন্ধু ‘মুন’ এর গীটারের তার ৩ বার ছিঁড়েছিল। কিন্তু যারা ইভেন্টে অংশগ্রহণ করেছে তারা সবাই ইভেন্টটি ভালোভাবে উপভোগ করতে পেড়েছে। এটাই সব থেকে বড় শান্তি।

সমস্ত ছবি রয়েছে এই ফেসবুক অ্যালবামেঃ https://www.facebook.com/media/

আনকাট ছবি রয়েছেঃ
  1. https://drive.google.com/open?id=0B4nzcGStDS8qQ2hzT2FnaDVValE
  2. https://drive.google.com/open?id=0B8-cIHigISkvSWM3bGdiYlRvbms
  3. https://drive.google.com/drive/folders/0B4nzcGStDS8qakl1UkFVYXlVU00


ফেসবুক ইভেন্ট পেইজঃ https://goo.gl/8t4pb6
রূপক মিউজিক ক্লাবঃ https://www.facebook.com/groups/rupok.musicclub/
রূপক ম্যাগাজিন কমিউনিটিঃ https://www.facebook.com/groups/rupok.mag


রূপকের আগস্ট সংখ্যা এলো না কেন?

Related image

অনেকেরই প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছি, জিজ্ঞাস করছে সবাই, আগস্ট সংখ্যা কোথায়?
অনেকেই বলছে আমরা নাকি রেস্পন্স পাচ্ছি না বলে অফ করে দিয়েছি সব কাজ :p না, ব্যাপারটা সেরকমও না। আরে ধুর, একে বারেই ঠিক না।
তোমাদের রেস্পন্স এবারে আগের মতোই স্বতস্ফুর্ত ছিলো, কিন্তু সমস্যা হলো, সব বাংলাদেশী কলেজগুলোর কি কারনে জানি ঈদের আগে একসাথে পরীক্ষা নিতে ইচ্ছা করে। -_- আমাদের টিমের সবার একসাথে এক্সাম শুরু হয়ে গেলো, হারম্যান কি হলিক্রস, জিএসসি কি ডিসি, বিএন কি এসপিএসসি, সবার এক্সাম। আর কাজ আগানো আটকে গেলো :/
তবে এবারে তোমাদের জন্য একটু চমক নিয়ে আসতে চাই :) এবারে হবে গান সংখ্যা। গান আমাদের সবার প্রিয়। যেখানে থাকি, প্রিয় গান শুনতে সবারই ভালো লাগে। হয়তো বাসে চলতে, অফিস থেকে ফিরতে, একা একা ভাব কাটতে, সময় পাস করতে, অংক করতে... না, অংক করার সময় আমি নিজেও গান শুনি। আমার অংক করার সময় মেটাল জনরা শুনতে ভালো লাগে, মেটাল শুনলে মাথা গরম থাকে, অংক ভালো হয়। এটা কিন্তু কেবল আমার থিওরি :p কেউ চেস্টা করে বিফল হলে সময় ফেরত পাবে না :p
আর হ্যা, গান সংখ্যা বলে যে অন্য লেখা প্রকাশ হবে না, এমন নয়। তোমরা নিজেদের মতো যা খুশি লিখে পাঠাও রূপকে :)
রূপকের মেইল, editor@rupok.net

চালু করা হয়েছে রূপকের ইউটিউব চ্যানেল

Image result for youtube


চালু করা হয়েছে রূপকের ইউটিউব চ্যানেল। 
এবার রূপকের সমস্ত আপডেটস, অফিশিয়াল ভ্লগস, পার্টনারশিপ ফেস্টের ডকুমেন্টারি ফিল্ম নিয়মিত আপডেট করা হবে রূপকের ইউটিউব চ্যানেলে!

"রূপক জুন ২০১৭" -এর লেখকরা

রূপকের চতুর্থ সংখ্যা "রূপক জুলাই ২০১৭" প্রকাশিত হয়েছে।
বিনামুল্যে এই ম্যাগাজিনটির কপি ডাউনলোড করতে পারবে রূপকের ওয়েবসাইট থেকে।
রূপকের ওয়েবসাইট http://rupok.net
এছাড়া পুরনো সংখ্যা পেতে পারো আর্কাইভে :)






প্রচ্ছদ অলঙ্করনঃ তাওসিফ তুরাবি
প্রচ্ছদ মডেলঃ সাবিহা, শিফা এবং অন্তরা 


এবারের লেখকরা,

সম্পাদকীয় - নুরশালিন ইসলাম সিফাত

গল্প

  1. স্বাক্ষর স্মৃতি - মাহমুদুল হাসান সাগর
  2. অর্নবের ক্রিকেট খেলা - রুমান হাফিজ
  3. ফ্যানটা ঘুরছে - সিফাত সাদিকীন
  4. লাল - শাহী ইমাম ফাহিম
  5. তুই পাপ্পু নাকি জনি - তাওসিফ তুরাবি
  6. স্কুল লাইফের স্মৃতিচারণ - সূর্য্য ভৌমিক

রহস্য গল্প

  1. বনের অসুর - সিফাত সাদিকীন
  2. কবর চোর - ১ - ইজতিহাদুল আলম মাহমুদ

স্কুললাইফের স্মৃতিচারণ

  1. তুমিও এনেছ নাকি?
  2. স্যার আপনিও জানেন?
  3. আঁখ চুরি!
  4. পরবি পর ম্যামের পায়ে
  5. কে কি করে আমি দেখবো
  6. বেঞ্চে কাওকে বসতে দিতাম না
  7. মৌমাছির চাক
  8. শীষ বাজালো কে?
  9. আজ তোকে ভদ্রতা শেখাবো
  10. ঘন্টা উঠিয়ে দিয়ে আয়
  11. হুজুর স্যারের কার্টুন

গেইম রুম

  1. ড্যায়িং লাইট - ফাহাদ হোসেন

প্রযুক্তি কথন

  1. হ্যাকিং কি কোনো অপরাধ? - তাওসিফ তুরাবি
  2. বিল গেটসের ভবিষ্যদ্বাণী - আহমেদ ইফতেখার

ফিচার

  1. কিভাবে লিখবে সাইন্টিফিক পেপার - ইব্রাহিম মুদ্দাসসের
  2. তিন গোয়েন্দার অ্যাডভেঞ্চার - তাহমিদ হাসান মুত্তাকি

সাইন্স ফিকশন

  1. আইল্যান্ড থার্টিন - তাওসিফ তুরাবি


অন্যান্য বিভাগ

ছন্দনন্দন

  1. এক খানি রেজাল্ট - আরাফাত হোসেন সৌরভ
  2. পুনরাগমন - সৌরভ জহিরুল
  3. ইশকুল লাইফ - আনাতুল হক সিজান
  4. নবীনবরণ - প্রয়াত আফতাব আলী


ক্যামেরার জাদু

  1. আঁধারে সূর্যোদয় - সূর্য্য ভৌমিক
  2. সীমাহীন - ফাবিহা নৌশিন

রূপক'স ইন্টারভিউ উইথ ঋভু

ঋভু ভাইয়া বর্তমানে বাংলাদেশের রুবিক্স কিউবের রেকর্ড হোল্ডার। বাংলাদেশে উনার সর্বনিম্ন টাইমিং ছিল ৬.৫৫ সেকেন্ড আর আন্তর্জাতিকভাবে অফিশিয়ালি ৭.১৮ সেকেন্ড। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে পড়াশোনা করছেন।
ইন্টারভিউটি নিয়েছে রূপক টিমের পক্ষ থেকে আমি, সিয়াম আহমেদ। সহযোগিতা করেছে তাওসিফ তুরাবি। এছাড়া তোমরাও যারা প্রশ্ন পাঠিয়ে আমাকে সাহায্য করেছ। আর ঋভু ভাইয়ার কথা না বললেই নয়। ইন্টারভিউ নেয়ার জন্য আমার প্রস্তুতি ভালো ছিলো না, কিন্তু ভাইয়া খুব মজার মানুষ। কথা বলতে বলতে কখন যে ২ ঘন্টা হয়ে গেছে টেরও পাইনি। ঋভু ভাইয়াকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ।




রূপকঃ হ্যালো ভাইয়া, কেমন আছেন?

ঋভু ভাইয়াঃ খুব ভালো। আসলে আমি কথা খুব বেশি বলি । আমার সাথে কথা বলতে তোমার অসুবিধা হতে পারে কারণ আমি খুব বেশি কথা বলি। বিরক্ত বোধ করো না।

রূপকঃ না, ভাইয়া। আপনি কথা বেশি বলেন এক্ষেত্রে বরং আমার সুবিধাই হলো। ইন্টারভিউ নিতে সুবিধা হবে।

ঋভু ভাইয়াঃ
 হাহা, আচ্ছা বলো।

রূপকঃ
 প্রথমে আপনার রুবিক্স কিউব যাত্রার শুরুর গল্প শুনতে চাই। কিভাবে কবে কিউব মিলানো শুরু করেন ইত্যাদি।

ঋভু ভাইয়াঃ আচ্ছা, আমি যখন ছোট ছিলাম, যখন ক্লাস সেভেন, এইট, নাইনে পড়তাম তখন কবিতা আবৃতি করতাম, ডিবেট ইত্যাদির সাথে যুক্ত ছিলাম...

রূপকঃ ভাইয়া, একটু থামাই। আপনি কবিতা আবৃতি করতেন বললেন। তাহলে নিশ্চয়ই কবিতা পড়তেন কিংবা লিখতেন।

ঋভু ভাইয়াঃ হ্যাঁ, কবিতা আমার খুব পছন্দের, এখনো। আমার মন খারাপ থাকলে কবিতা পড়লেই মন ভালো হয়ে যায়। লিখতামও, ক্লাস সিক্স থেকেই কবিতা লেখা শুরু করি। সিক্স থেকে এইট এই ৩ বছর কবিতা লিখেছি। এখন আর লিখি না।

রূপকঃ 
এখন আর লিখেন না কেন?

ঋভু ভাইয়াঃ এর পিছনে একটা দুঃখের গল্প আছে। আসলে, আমি একটা ডায়েরিতে কবিতা লিখতাম। সেই ডায়েরিতে প্রায় ৩০০ কবিতা ছিলো। আমার কবিতার সাইজ খুব বড় ছিলোনা। ডায়েরির এপিঠ –উপিঠ মিলিয়ে মোট ২ পাতা সাইজের কবিতাই ছিলো। আর আমি পেন্সিল দিয়ে কবিতা লিখতাম যেন কোন কিছু ভুল হলেই মুছতে পারি। এতে জায়গাও কম লাগে আবার লেখ সুন্দর ও থাকে। আর আমার আব্বু ও কবিতা লিখেন, তার কবিতা মাঝে মাঝে পত্রিকাতে ছাপা হতো। তিনিই আমাকে কবিতা লেখার ব্যপারে অনুপ্রেরণা দিতেন। আব্বু বলেছিলেন- “তুমি তো ভালোই কবিতা লিখো, আরো কিছু লিখো, তারপর বইমেলায় তোমার একটা কবিতার বই প্রকাশ করবো। কিন্তু আফসোস- আমি যখন নাইনে পড়ি তখন আমার একজন ক্লাসমেট পড়ার জন্য আমার ডায়েরিটা নেয়। তারপর অনেকদিন তার কোন খোঁজ নেই। কিছুদিন পর জানলাম সেই ছেলে ফ্যমিলিসহ আমেরিকা চলে গেছে, আমার ডায়েরিটা ফেরত না দিয়েই। এরপর থেকে ওর সাথে আর যোগাযোগও হয়নি। তারপর থেকে আর কবিতা লিখিনি কখনো।

রূপকঃ কবিতা আবৃতিতে কখনো পুরষ্কার পেয়েছিলেন?

ঋভু ভাইয়াঃ হ্যা, কবিতা যেহেতু আমার খুব প্রিয় , প্রায়ই বিভিন্ন কবিতা আবৃতির প্রতিযোগিতা যেতাম। অনেক পুরষ্কার ও পেয়েছি। একবার ন্যশনাল কবিতা আবৃতি প্রতিযোগিতায় সেকেন্ড হয়েছিলাম। ২০১২ সালে, তখন আমি নাইনে পড়ি।

রূপকঃ আগের গল্পে ফিরে যাই...

ঋভু ভাইয়াঃ তখন অনেকেই আমাকে বলতো এইগুলা কি করিস, কবিতা- ডিবেট ফালতু সব জিনিস, একদম কুল না, এগুলা করতে বুদ্ধি-সুদ্ধি লাগে না । আমি কিছুই বুঝতাম না , কুল আবার কি! তখন আমি তাদেরকে জিজ্ঞেস করতাম কুল কি? এর কিছুদিন পর একটা সায়েন্স ফেয়ারে যাই। পুরষ্কার বিতরণীর সময় দেখলাম রুবিক্স কিউবের পুরষ্কার দিচ্ছে। এটা ছিলো ২০১২ সাল। এই প্রথম আমি কিউব দেখি, এর আগে কোনদিন দেখিও নি, টাচ ও করি নি। তখন ক্লাস নাইনে ছিলাম। তখন আমাকে তাদের একজন বললো এটা হচ্ছে কিউব। এটা তো কখনোই মিলাতে পারবি না। এমন না যে, তারা বলেছে দেখে এটা মিলাতে হবে।

আমরা কথা বলছিলাম মেসেঞ্জারের গ্রুপ কলে, আমি আর ঋভু ভাইয়া কথা বলছিলাম আর তুরাবি রেকর্ড কথাগুলো করছিলো। প্রথম থেকেই ফোনের ঐপার থেকে খটা-খট শব্দ হচ্ছিলো। ভেবেছিলাম তুরাবি পিসিতে টাইপিং করছে , তাই এই শব্দ । পরে জানতে পারি এটা ঋভু ভাইয়ার কিউব সলভ করার শব্দ ছিলো]

এরপর আমি যখন ক্লাস টেনে উঠলাম, মানে নাইনের শেষে, তখন অনেকদিন বন্ধ থাকে স্কুল । অনেকে অনেক কিছু করে, আমার একটা ফ্রেন্ড ছিলো সে তখন ২ মিনিটে কিউব মিলাইতে পারতো। আমি তখন ভাবতাম- আরে, ছেলে তো জিনিয়াস। তখন আমি তার কাছে গিয়ে বললাম আরে, তুই এটা কিভাবে মিলাস। আমাকে শিখিয়ে দে। এরপর সে আমাকে আধা ঘন্টা ধরে বুঝালো আমি কেন এটা মিলাতে পারবো না। এটা আমার কাজ না। এরপর আমিও মেনে নিলাম যে আমি এটা মিলাতে পারব না। ভুলেই গেলাম রুবিক্স কিউবের কথা।

রূপকঃ আমি ভেবেছিলাম এরপর থেকেই আপনার কিউবিং শুরু। শেষে তো বললেন, আবার কিউবের কথা ভুলে গেলেন!

ঋভু ভাইয়াঃ আসলে আমার জীবনের কাহিনি সিনেমার মতো। আগে থেকে কিছু প্রেডিক্ট করা খুবই কঠিন।

রূপকঃ হাহাহা।

ঋভু ভাইয়াঃ আচ্ছা, এখন বলি আমার কিউবিং কিভাবে শুরু হলো। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারী মাসের ১৪ তারিখ ঢাকা কলেজে একটা সায়েন্স ফেয়ার ছিলো। আমি সেখানে প্রজেক্ট নিয়ে গেছিলাম। সেখানে রুবিক্স কিউব কপিটিশন হয়। আমি ভাবলাম- যাই দেখি, ওরা বুদ্ধিসুদ্ধিওয়ালা মানুষ, কিভাবে মিলায়। কম্পিটিশনে যে ছেলেটা ফার্স্ট হয়েছে তার টাইমিং ছিলো ১ মিনিট ১৬ সেকেন্ড। তার সাথে আগে থেকেই কিছুটা পরিচয় ছিলাম। ওর কাছে গিয়ে বললাম “আমাকে একটু শেখা, তুই তো জিনিয়াস।” এরপর ও বললো- আমি তো কাউকে আমার কিউব ধরতে দেই না। আমি পারবো না। এরপর আমি ঐযে যারা ঐ কম্পিটিশনে সেকেন্ড আর থার্ড হয়েছিলো তাদের কাছে গিয়ে বললাম শিখাতে বললাম। ওরা খুব ভালো ছিলো। আমাকে বললো এটা তুমি কতদিনে শিখতে পারবা তার কোন বাধাধরা নিয়ম নেই। কারো ১ দিন লাগে আবার কারো ২ মাস লাগে। সেটা তোমার উপর ডিপেন্ড করে। এই প্রথম কেউ আমাকে আশা দিলো যে আমিও এটা পারব। এরপর তারা আমাকে আধাঘন্টা ধরে কিভাবে কি করতে হয় তা বলে। আমি তখনই ওখানে বসে ৩৫ মিনিটের মধ্যে কিউবিটা মিলাই।

রূপকঃ মাত্র ৩৫ মিনিটে?! আমার প্রথমবার কিউব সলভ করতে সময় লেগেছিলো ৩ দিন। আচ্ছা, কিউব মেলানোর তো অনেক মেথড আছে। যেমন , আমি যখন শিখি তখন {লেফট, ডাউন, লেফট ইনভার্স, ডাউন ইনভার্স}এইসব সূত্র দিয়ে শিখেছি। আপনি কিভাবে শিখেছিলেন?

ঋভু ভাইয়াঃ হ্যা, হ্যা, আমিও এভাবেই শিখি। তারা ৭টা সূত্র লিখে দেয় আর কোনটা লেফট –রাইট এগুলা দেখিয়ে দেয় শুধু। সূত্রগুলো কিভাবে দিতে হয় এগুলা আমি নিজেই বের করেছিলাম। এখন আমার তো কোন কিউব নাই। কি করবো! আমার এক ফ্রেন্ড ছিলো অর্ণব। ও আমার খুব ভালো ফ্রেন্ড। ওর কাছ থেকে ৭ দিনের জন্য ওর কিউবটা ধার করেছিলাম। কিন্তু মজার ব্যপার হচ্ছে, ঐ কিউবটা এখনো আমি তাকে ফেরত দেই নাই।

রূপকঃ
 এর মানে এখনো কি আপনার কাছে ঐ কিউবটা অক্ষত আছে?

ঋভু ভাইয়াঃ না, অক্ষত নাই। আগেরকালের কিউব তো, হালকা। মাটিতে পড়ে গেলেই ভেঙ্গে যেত। সেটাও ভেঙ্গে গেছে। অর্ণব তখন ২ মিনিটে মিলাতে পারতো। আমার লাগতো ৬ মিনিট। আমি অবাক হয়ে ভাবতাম - মানুষ ২-৩ মিনিটে এই জিনিস কিভাবে মিলায়। এরপর আস্তে আস্তে মিলাতে মিলাতে একসময় অর্নবকে হারিয়ে দিলাম।

রূপকঃ আপনার প্রথম কিউব কম্পিটিশন কোনটা ছিলো?

ঋভু ভাইয়াঃ আমি ফেব্রুয়ারির ১৪ তারিখে কিউব মেলানো শিখি আর এপ্রিলের ২০ তারিখে গভ. ল্যাবেরেটরি স্কুলে একটা কিউব কম্পিটিশন ছিলো। আমি সেখানে গেলাম। কম্পিটেটরদের স্পিড দেখে আমার মনে হলো যদি ফার্স্ট নাও হতে পারি তাহলে সেকেন্ড বা থার্ড হবোই। আচ্ছা সিয়াম, তোমার কি আইডিয়া আছে ঐ কম্পিটিশনে আমার রেজাল্ট কি ছিলো?

রূপকঃ ফার্স্ট হয়েছিলেন। তাই কি?

ঋভু ভাইয়াঃ হাহা, একদম না। আমি তোমাকে বললাম না আমার কাহিনী একদম সিনেমার মতো... হয়েছে কি, ঐ কম্পিটিশনে কিউব মিলাতে গিয়ে আমার কিউবটা ভেঙ্গে যায় এবং আমি ডিসকোয়ালিফাইড হয়ে যাই। এরপর আমার প্রচন্ড জেদ হয়। কেনো এরকম হলো... এরপর আমি ঠিক করি কিউবিং এর ন্যাশনাল রেকর্ড ব্রেক করবো আমি। ঐসময় রাশিদ আবিদ নামে একজন ভাইয়া ছিলো । তিনি তখন ছিলেন ন্যশনাল চ্যম্পিয়ান। উনার টাইমিং ছিলো ২৪ সেকেন্ড। তারপর এক প্রকার পড়ালেখা বাদ দিয়েই কিউব মেলানো শুরু করি। দিনে ৯-১২ ঘন্টাই কিউব নিয়েই থাকতাম। প্রতিদিন ৬০০-৭০০ বার মিলাতাম। একটাই ইচ্ছা তখন অনেক বড় ব্যবধানে ন্যশনাল রেকর্ডটা ব্রেক করতে হবে। কয়েকদিন পর আমার এসএসসি পরীক্ষা। এর মধ্যেই এই পাগলামী! কিছুদিন পর ফেব্রুয়ারীর ৫ তারিখে রেসিডেন্সিয়ালে একটা কিউব কম্পিটিশন হয়। তখন আমার এসএসসি পরীক্ষা চলছিলো। তাও আমি যাই। এরপর ঐখানে আমি প্রথম ন্যাশনাল রেকর্ডটা ব্রেক করি। ২৪ সেকেন্ড ছিলো, আমি করি ১২.৪৯ সেকেন্ডে।

রূপকঃ ওয়াও, একদম অর্ধেক। আচ্ছা এটা তো ৩ ইন্টু ৩ কিউব ছিলো তাই না?

ঋভু ভাইয়াঃ হ্যা। অবশ্য বাংলাদেশে শুধু ৩ ইন্টু ৩ কিউবের কম্পিটিশনই হয় , অন্য কোন কিউবের কম্পিটিশন সেরকম হয় না। আমি যদিও সব কিউবই মিলাই। যাই হোক, তখন ১২.৪৯ ছিলো এক্সট্রাআর্ডিনারি। সবাই্তো খুব অবাক। এরপর ২-৩ টা মিডিয়াতে এই নিউজ আসে। এরপর অবশ্য আমি আমার নিজের রেকর্ডটাই আরো ৪ বার ব্রেক করি। টাইমিংগুলো ছিলো, প্রথমটাতো ১২.৪৯ এরপর ১০.৯১, ১০.২৪, ৯.৪১, ৬.৫৫

রূপকঃ কিউবিং-এ আপনার ন্যাশনাল আর ইন্টারন্যাশনাল মেডেল মোট কয়টা?

ঋভু ভাইয়াঃ একটু ভাবতে হবে। আ...... ইন্টারন্যশনাল এ্যাওয়ার্ড ১৩ টা আর ন্যশনাল মনে হয় ৭৩ টা।

রূপকঃ ওয়ার্ল্ড বেস্ট কত? আর ওয়ার্ল্ড র‍্যাঙ্কিং কত আপনার?

ঋভু ভাইয়াঃ
 ওয়ার্ল্ড বেস্ট টাইমিং ৪.৭৩ সেকেন্ড আর ইন্টারন্যাশনালি অফিশিয়াল টাইমিং আমার ৭.১৮ সেকেন্ড। র‍্যাঙ্কিং ১৩৪ প্রায় ৭৪,৩০১ জন কম্পিটিটরদের মধ্যে। এই ৭.১৮ টাইমিংটা গত ১ সপ্তাহ আগে ইন্ডিয়াতে করি।

রূপকঃ এত এত মেডেল, পুরষ্কার এগুলোর মধ্যে কোনটা আপনার কাছে সবচেয়ে বেশি আনন্দদায়ক।

ঋভু ভাইয়াঃ (হাসতে হাসতে) টাফ কোশ্চেন। সবগুলোতেই আনন্দ আছে। তবে এই বছরের ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপটা মনেহয় আমার জন্য বেশি আনন্দের। এরমাঝে গতবছর আমার একবার এক্সিডেন্টের কারণে সেকেন্ড হয়েছিলাম। এবার আবার আগের অবস্থানটা ফিরে পেলাম। তাই মনে হয় এটা বেশি আনন্দের।

রূপকঃ আচ্ছা ভাইয়া, কিউব, সুডোকু, দাবা এগুলো তো একই ধরনের পাজল। দাবা আর সুডোকুতেও কি আপনার ইন্টারেস্ট আছে?

ঋভু ভাইয়াঃ ইন্টারেস্ট আছে। কিন্তু দাবাতে খুব বেশি নাই। তবে সুডোকু মিলাই। সুডোকুতেও ৩ টা প্রাইজ পেয়েছি বিভিন্ন সায়েন্স ফেয়ারগুলোতে।

রূপকঃ আপনার সুডুকো সলভের টাইমিং কত? আর সুডুকোর তো অনেক লেভেল আছে, যেমন- ইজি, মিডিয়াম, হার্ড, এক্সট্রিম, ইভিল। সায়েন্সফেয়ারগুলোতে কোনটা ছিলো?

ঋভু ভাইয়াঃ আমার সুডুকোর টাইমিং ২ মিনিট। এক্সট্রিম আর ইভিল দিত না। সাধারণত হার্ডটাই ছিলো।

রূপকঃ আচ্ছা ভাইয়া আপনার কি কিউবের কালেকশন আছে?

ঋভু ভাইয়াঃ না, আমার যেসব কিউব দরকার সেসব কিউবের বাইরে কোন কিউব নাই। যেসব কিউবের কম্পিটিশন হয় সেসবই আমার কাছে আছে। যেমন, একটা কিউব আছে মিরর কিউব। এটা দেখতে খুব সুন্দর তাই মেয়েরা এটা খুব বেশি পছন্দ করে। আমি এটা মিলাতে পারি কিন্তু যেহেতু এর কোন কম্পিটিশন নাই তাই এই কিউবটাও আমার কাছে নাই।

রূপকঃ কিউবিং এ আপনার ইন্সপাইরেশন কি?

ঋভু ভাইয়াঃ আমি নিজেই। কারণ এখনো আমি মাঝেমাঝে ঘুম থেকে উঠে যখন দেখি টাইমিং ১০-১২ সেকেন্ডের কম করতে পারছি না তখন হতাশা তৈরী হয়। আবার নিজেরই মনে হয় আমি ই তো ছিলাম যে কিনা ৬ মিনিটের কমে মিলাতে পারতাম না আবার আমি ই ৬ সেকেন্ডে মিলাইতাম। আমি মনে করি মানুষের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা সে নিজেই।

রূপকঃ অনেকে মনে করে করে কিউব মিলানো সময়ের অপচয়। তাদেরকে আপনি কি বলবেন?

ঋভু ভাইয়াঃ 
কিউবিং যেহেতু ব্যাক্তিজীবনে খুব বেশি প্রভাব ফেলছে না সে হিসেবে সময়ের অপচয়ই। আমরা অনেক ভাবেই সময়ের অপচয় করি। কেউ হয়তো কম্পিউটারের গেম খেলে সময় অপচয় করে অনেকে কিউবিং করে। যে যেভাবে নিজেকে এন্টারটেইন করতে পারে। আমি যেমন ফিফা ১৬, ১৭ না খেলে কিউব মিলিয়ে নিজেকে এন্টারটেইন করতে পারি। আর কিউবিং করলে কিছু দক্ষতা বাড়ে। যেমন আঙ্গুলের স্পিড, রিফ্লেক্সেস, টাইপিং স্পিড, লেখার স্পিড, দ্রুত চিন্তা করতে পারা, কালার রিকগনাইজেশন ইত্যাদি। piano tiles নামে একটা গেম আছে। এটাতে নিচ থেকে খুব দ্রুত পিয়ানোর কর্ড উপরে উঠে , সেগুলোতে আঙ্গুল লাগিয়ে স্কোর করতে হয়। এই গেমের জন্য মাঝেমাঝে ফ্রেন্ডদের কাছে গালি খাইতে হয়। যেখানে ওদের হাইয়েস্ট স্কোর ৭০০ সেখানে আমার ২৫০০+ হয়ে যায়।

রূপকঃ আপনি কি চান কিউবিং কে অলিম্পিকে দেখতে?

ঋভু ভাইয়াঃ (হাসতে হাসতে) অবশ্যই চাই। কিন্তু আমি এটা সমর্থন করিনা। কারণ আমি মনে করিনা অলিম্পিকে যাওয়ার জন্য কিউবিং সেধরনের গেম না।

রূপকঃ আপনি তো কিউবআড্ডা শুরু করেন। এটার সম্পর্কে ছেলেমেয়েরা কিভাবে জানতে পারে?

ঋভু ভাইয়াঃ
 আসলে এটা একটা ভুল ধারনা যে আমি কিউবআড্ডা শুরু করি। আমি অন্যদের তুলনায় নতুন। এখন আমার পরে যে ছেলেটার টাইমিং সে আমার চেয়ে আড়াই বছর আগে কিউব সলভ করা শুরু করে। কিউব আড্ডা ২০১১ সাল থেকেই হয়ে আসছে। প্রতি মাসেই হয় । একেক মাসে একেক জায়গায়। তবে এমাসে রমজানের জন্য হবে না। আর কিউবআড্ডার ফেসবুক গ্রুপ

"রূপক জুন ২০১৭" -এর লেখকরা

রূপকের তৃতীয় সংখ্যা "রূপক জুন ২০১৭" প্রকাশিত হয়েছে।
বিনামুল্যে এই ম্যাগাজিনটির কপি ডাউনলোড করতে পারবে রূপকের ওয়েবসাইট থেকে।
রূপকের ওয়েবসাইট http://rupok.net
এছাড়া পুরনো সংখ্যা পেতে পারো আর্কাইভে :)





প্রচ্ছদঃ ইসরাত জাহান আঁখিমাহমুদুজ্জামান কমল ও তাওসিফ তুরাবি


এবারের লেখকরা,

সম্পাদকীয় - নুরশালিন ইসলাম সিফাত

গল্প

  1. রবারি - কিশোর পাশা ইমন
  2. হায়রে মহাপুরুষ - জহিরুল ইসলাম রাফি
  3. দা ট্রু স্মাইল - তানজিমুর রহমান
  4. বেড়ালছানাটির নাম নেই - তানজিমুর রহমান
  5. ঠিকানাবিহীন - লিমিয়া নাওয়ার আদৃতা



গেইম রুম

  1. মারভেল কন্টেস্ট অব চ্যাম্পিয়নস - ফাহাদ হোসেন
  2. দা লাস্ট অব আস - মঞ্জুরুর কাদির নাফিস

প্রযুক্তি কথন

  1. নীল আলো ক্ষতিকর? - তাওসিফ তুরাবি
  2. র‍্যানসমওয়্যারঃ ওয়ানাক্রাই - তাওসিফ তুরাবি

ফিচার

  1. ভালো কলেজ পাওনি যারা -  মুস্তাকিম আহমেদ হিমেল
  2. অ্যাডলফ হিটলারের মৃত্যু রহস্য - শিপু আহসান

ইন্টারভিউ

  1. ইন্টারভিউ উইথ ঋভু -  সিয়াম আহমেদ


অন্যান্য বিভাগ

ছন্দনন্দন

  1. মনের খাতায় - সিয়াম সরকার জান


ক্যামেরার জাদু

  1. পদ্মার তটে সুর্যাস্ত - মোঃ হাসান
  2. মুক্তবিহঙ্গ - আসিফ মাহবুব
  3. মহাপতঙ্গ - শামীম আহমেদ

পেন্সিলে আঁকা স্বপ্ন

  1. আবদুল্লাহ আল হাসিব
  2. রিফায়েত ইসলাম